সাদেকুল ইসলাম, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরলে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা বিরল থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে আটক ও কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী জেসমনি আক্তার (১৮) বিরল সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেন। অভিযোগে বলা হয়, এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. আরমান আলী (২০) দীর্ঘদিন ধরে কলেজে যাতায়াতের পথে এবং কলেজের আশপাশে ওই তরুণীকে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে বিরক্ত করার পাশাপাশি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তরুণী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে সতর্ক করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সতর্ক করার পরও আরমান আলী ওই তরুণীকে অনুসরণ করতেন এবং তাকে অপহরণের সুযোগ খুঁজতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিরল থানাধীন ১০ নম্বর রাণীপুকুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকার দক্ষিণ দিকে মোলাবান্দা পুকুরসংলগ্ন ফাঁকা পাকা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে অবস্থান নেওয়া আরমান আলী ও তার সহযোগী মো. ওমর ফারুক নোমান (৩০) ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি অপরিচিত সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তরুণী চিৎকার করলে পথচারী মো. সালেবুর রহমান (৪৪) বিষয়টি দেখতে পেয়ে সিএনজির দিকে এগিয়ে যান। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা তরুণীকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিরল থানায় জানানো হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. আরমান আলীকে আটক এবং কলেজছাত্রী জেসমনি আক্তারকে উদ্ধার করে। বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল এমরান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভুক্তভোগীর বাবার কাছ থেকে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর ওই দিনই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামিকে আটক এবং কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রীকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক মো. আরমান আলীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি।
মন্তব্য করুন