গফরগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেলের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে, বিট সহকারী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ওই এলাকায় এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এএসআই সোহেলের জুলুম ও চাপের শিকার হয়েছেন অসংখ্য নির্দোষ মানুষ। চরআলগী বিটে দায়িত্ব পালনকালে এক সাধারণ কৃষককে অহেতুক হয়রানি করার ঘটনাটি সে সময় বেশ আলোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত সার্কেল অফিসার বিষয়টি অবগত হয়ে তাকে অন্য বিটে সরালেও থানা প্রশাসন ও ওসির রদবদলের সুযোগ নিয়ে পুনরায় তিনি রাওনা ইউনিয়ন বিটে বহাল হন। স্থানীয়দের কাছে 'দাঁতলা সোহেল' নামে পরিচিত এই কর্মকর্তার ঘুষের চাহিদা না মেটানো পর্যন্ত কাউকে অহেতুক ভয়ভীতি প্রদর্শন মামলা বা হয়রানি থেকে রক্ষা মিলছে না।
অভিযোগের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, অপরাধ দমনে সহায়তাকারী সোর্সদের জীবনও তিনি ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, "আমি সাবেক ওসি শিবিরুলের কাছে গোপনে মাদকের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়েছিলাম। তিনি বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন এএসআই সোহেলকে। কিন্তু সোহেল মূল অপরাধীদের সাথে আঁতাত করে আমার নাম ফাঁস করে দেয়। এতে তীব্র নিরাপত্তা ও সামাজিক হুমকির মুখে পড়ে এক পর্যায়ে ওই এলাকার এক ব্যক্তিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়।
জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং এলাকাভিত্তিক মাদক কারবারিদের সাথে অনৈতিক সখ্য গড়ে তুলেছেন এই কর্মকর্তা। বিকাশেও ঘুষ নেন এই সহকারী উপ-পরিদর্শক। ফলে বিট কেন্দ্রিক তার মাসিক অবৈধ আয় দাঁড়িয়েছে লাখ টাকার ওপরে। এখন নিয়মিত বিকাশেও ঘুষ নেন পুলিশের এই উপ-পরিদর্শক। ওসি এবং সার্কেল এসপির কাছে মৌখিক অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আতঙ্কে কাটানো সাধারণ মানুষ এখন অবিলম্বে এই দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে গফরগাঁও থানার বর্তমান ওসি জানান, "অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে গফরগাঁওবাসীর স্পষ্ট দাবি,নিয়মিত তদন্তের আশ্বাসে আর আস্থা রাখা সম্ভব নয়; অনতিবিলম্বে এএসআই সোহেলকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।