বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য ওই অতিরিক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পরই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিবিএসের এই জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় তা ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।
নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। এতে ২০তম গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। সুপারিশ বিবেচনার দায়িত্বে থাকা সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণের কথা ভাবছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনও কিছুটা কমানো হতে পারে। বেতন কমিশন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১: ৮ করার সুপারিশ করেছে। সচিব কমিটি তা আরেকটু কমিয়ে ১: ৭ দশমিক ৫ করার প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে এ অনুপাত ১: ৯ দশমিক ৪।
বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উঠতে পারে। ১৯তম থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্তও বিভিন্ন ভাতা বাড়বে। তবে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে না। বেতন কমিশন চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করলেও তা ৩ হাজার টাকা করার চিন্তা চলছে। সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কিছু ভাতা কমানো হলেও বর্তমানের তুলনায় তা বেশি থাকবে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। আর ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে। বেতনকাঠামো পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সচিব কমিটি ও অর্থ মন্ত্রণালয় খসড়া চূড়ান্ত করতে কাজ করছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। রাজস্ব আহরণের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করেই এটি দুই ধাপে কার্যকর করার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।
মন্তব্য করুন