ঝিনাইদহ-৩ আসনের এমপি চঞ্চলের সাম্রাজ্যে অসহায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চলের লাঠিয়াল এবং নিজের বাহিনীর কাছে অসহায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা। চঞ্চল বাহিনীর হামলা-মামলা এবং নির্যাতনে দলের পরীক্ষিত কর্মী ও নেতারা রাজনৈতিক অঙ্গনে অসহায় হয়ে পড়েছে এনিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা খোদ দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছেন।

২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকার প্রার্থী হয়ে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শফিকুল আজম খান চঞ্চল এরপর ২০১৪ সালে দল তাকে মনোনয়ন না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন তিনি। ফলশ্রুতিতে সেসময় দল তাকে বহিস্কার করে। কিন্তু ২০১৮ সালে কৌশলে এবং অঢেল অর্থ দিয়ে দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নেন চঞ্চল। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর থেকেই বেপড়োয়া হয়ে উঠেন শফিকুল আজম খান চঞ্চল। ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর) অঞ্চলে গড়ে তুলেন নিজের একক সাম্রাজ্য। শুরুতেই দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার করে তাদের দল থেকে বের করে দেবার পায়তাঁরা ও চক্রান্ত শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে নিজের একক বলয় তৈরী করে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নিজের বাহিনীতে যুক্ত করেন তিনি। দলের নেতা-কর্মীরা এবিষয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের উপর বিরুদ্ধে চালানো হয় অত্যাচার নির্যাতন।

দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টানা দিন মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ থাকলেও শান্তিতে নেই ঝিনাইদহ-৩ তথা মহেশপুর ও কোর্টচাঁদপুরের আওয়ামী লীগও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে অনুপ্রবেশ এবং হাইব্রিডদের ভীড়ে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীরা নিজ দলেই কোনঠাসা । দুই উপজেলার সরকারী এবং বেসরকারী অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করছে এমপি চঞ্চলের আপন ভাইসহ আত্বীয়-স্বজনেরা। আর এসব ব্যাপারে মুখ খুললেই দলের নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন করে চঞ্চল বাহিনীর সদস্যরা।

একাধিক সূত্র অভিযোগ করে জানায়, এমপি চঞ্চল নিজস্ব বাহিনী শক্তিশালী করতে গিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নিজ দলে ভিড়িয়েছেন। মূলতঃ তাদের দিয়েই দল ভারী করেছেন। আর এসব বিষয়ে সাংসদ শফিকুল আজম খান চঞ্চলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমা হয়ে আছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দফতরে। অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর শফিকুল আজম খান চঞ্চলের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ পাঠিয়েছেন কোটচাঁদপুর ও মহেষপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এসব আবেদনে তারা স্বাধিনতা বিরোধী শক্তির হাতে ক্ষমতা দেয়ায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা অত্যাচারিত এবং লাঞ্চিত হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তাদের অভিযোগ, সাংসদ চঞ্চলের সাথে স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সুসর্ম্পক রয়েছে। তাদেরকে নানানভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন সাংসদ চঞ্চল। ঐসব নেতা-কর্মীদের বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সাংসদ চঞ্চল। আর এসব নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে যেমন ক্ষোভ রয়েছে তেমনটি রয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও।

এদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাংসদ শফিকুল আজম খান চঞ্চলের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুনীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ লংঘন করে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এব্যাপারে দলীয় সভানেত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা পত্র দিয়েছেন। এছাড়া এমপি চঞ্চলের ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

সূত্র জানায়, সাংসদ চঞ্চলের আপন ছোট ভাই বিপ্লব খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ নেতা পার্থ প্রতিম আচার্য্য হত্যা মামলার অন্যতম আসামী। অথচ একটি আলোচিত হত্যা মামলার আসামী হয়েও সাংসদ ভাইয়ের আর্শিবাদে সে এখন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, কোটচাঁদপুর ও মহেষপুরের আওয়ামী লীগ পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একটি চক্র। আর সেই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাংসদ শফিকুল আজম খান চঞ্চল।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য, ঝিনাইদহ-৩ আসনে এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করার জন্য মাঠে কাজ করছেন সাংসদ চঞ্চলের আপন মামাতো ভাই মোঃ আমীরুজ্জামান খান শিমুল। এছাড়া তার আরেকজন মামাতো ভাই কেএম ওয়াহিদুজ্জামান ফরহাদ খান চঞ্চলের একজন ব্যবসায়িক পাটনার। কোটচাঁদপুর থানা যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মুকুল খান এবং অপর আর এক মামাতো ভাই টিটু খান কুশনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর।

চঞ্চল বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে দলের একাধিক নেতা-কর্মী বর্তমানে এলাকাছাড়া। অনেকে আবার মিথ্যা মামলার ভয়েও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

চঞ্চল বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে দলের একাধিক নেতা-কর্মী বর্তমানে এলাকাছাড়া। অনেকে আবার মিথ্যা মামলার ভয়েও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে এক নির্যাতিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা জানান, সাংসদ চঞ্চল স্থানীয় জামায়াতের নেতাদের নির্দেশনায় চলেন। যেহেতু জামায়াতের এখানে একটি বড় ভোট ব্যাংক সেকারণে এমপি চঞ্চল জামায়াতে ইসলামীকে হাতে রেখেই নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চান। বিগত দিনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর বহু নেতা-কর্মীতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছেন। দলের নেতা-কর্মীরা এব্যাপারে কথা বললেই চঞ্চল বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হতে হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের।

দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এমপি চঞ্চলের হাত থেকে রক্ষা পেতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …