ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাবেও টান

সংবাদবিডি ডেস্ক :

‘ব্যাংকের টাকা লুটপাট করে খাচ্ছে কিছু গোষ্ঠী। ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাবে। ব্যাংকে আমানত রাখলে থাকবে না।’ এমন সব গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক পড়ে। এ নিয়ে কথা বলেন সরকারপ্রধানও। এমন গুজবে কান না দিতে সকলের প্রতি আহ্বানও জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়াও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপে অর্থ জমাতে পারছে না মানুষ। উল্টো ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংক খাতে কমেছে আমানত প্রবাহ।

শুধু সাধারণ আমানত নয়, কোটি টাকার উপরের হিসাবেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি কারণে কোটি টাকার হিসাব কমেছে। এর মধ্যে জ্বালানি পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি, আগের মতো আমানত রাখতে না পারা, জমানো অর্থ খরচসহ ব্যাংকের টাকা তুলে ফ্ল্যাট, প্লট ও জমিজমা কেনা উল্লেখযোগ্য।

সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা রয়েছে এক লাখ ৬ হাজার ৫২০ টি। তিনমাস আগেও এই হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৭ টি। সে হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে বিত্তশালী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে অর্থ না বেড়ে, উল্টো এক হাজার ৯৩৭টি হিসাব কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ সালেহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, কোটি টাকার উপরে জমা আছে এমন হিসাব কমে যাওয়া মানে এসব অর্থ অন্য খাতে চলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্ল্যাট, প্লট ও জমিজমার দাম অনেক বেড়ে গেছে। বিত্তশালীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে জমি বা ফ্ল্যাট কিনে রাখছেন। কারণ জমি বা ফ্ল্যাটের দাম সাধারণত কমে না, বাড়তেই থাকে। এছাড়া অনেকে ডলার কিনে রাখছেন।

এছাড়া সুদহার কম এটাও একটা কারণ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮টি। যাদের হিসাবে জমা ছিল ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।

Check Also

পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় নওয়াজউদ্দিনের মা

সংবাদবিডি ডেস্ক । পুত্রবধূর সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে অশান্তি। ঝগড়া না করে সোজা পুলিশের দ্বারস্থ হলেন …