দেশ ছাড়ছেন ঋণখেলাপিরা, ঠেকাতে পুলিশের সহায়তা কামনা

সংবাদবিডি ডেস্ক :

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ আবার বিদেশে অর্থ পাচার করছেন। কেউ ঋণখেলাপি হয়ে দেশত্যাগের পথ খুঁজছেন। ইতোমধ্যে অনেকে পালিয়ে গেছেন। একবার পালিয়ে গেলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে অর্থ আদায়। এমন পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি গ্রাহকদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে ব্যাংকগুলো। তাদের বিদেশে পালানো ঠেকাতে পুলিশের সহযোগিতা চাচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্স (আইএফআইসি) ব্যাংকের গ্রাহক মোহাম্মদ আলী। খেলাপির অভিযোগে ২০১২ সালে চট্টগ্রাম অর্থ ঋণ আদালতে তার নামে মামলা করে আইএফআইসি ব্যাংক। মামলায় তার স্ত্রী ও সন্তানকেও আসামি করা হয়। তার খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬১ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন চলমান ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি বিবাদীদের পাসপোর্ট আদালতে জমা এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দেয় অর্থ ঋণ আদালত, চট্টগ্রাম। কিন্তু এর আগেই মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রী বিদেশে পালিয়ে যান। বাংলাদেশে থেকে যান ছেলে আলী ইমাম। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি আর বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেননি।

অর্থ ঋণ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে আলী ইমাম। গত ৪ আগস্ট বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই রিট বাতিল করে চট্টগ্রাম অর্থ ঋণ আদালতের রায় বহাল রাখেন। রায়ে আদালত বলেন, ‘ব্যাংক যে ঋণ প্রদান করে তা হলো জনগণের আমানতের টাকা। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের ওপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে দেশের যেকোনো অর্থ ঋণ আদালত।’

ইসলামী ব্যাংকের মহাখালী শাখার গ্রাহক মো. মনির উদ্দিন। তার কাছে ব্যাংকের পাওনা ২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। কিন্তু দীর্ঘদিন মনির উদ্দিন মামলায় হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জমা দেওয়া পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মো. মনির উদ্দিনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী পৌরসভায়। বাবার নাম আলতাফ হোসেন এবং মায়ের নাম মরিয়ম নেসা। কানাডার পাসপোর্টধারী ও ঋণখেলাপি মো. মনির উদ্দিনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য গত ২৯ নভেম্বর পুলিশের বিশেষ শাখায় চিঠি পাঠায় ব্যাংকটির মহাখালী শাখা। চিঠিতে বলা হয়, কানাডার পাসপোর্টধারী মনির উদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো ঋণখেলাপি। তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন। তিনি যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, পাশাপাশি তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মনির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কারণ, ব্যাংকের কাছে জমা দেওয়া যোগাযোগের ঠিকানা বা তথ্য সঠিক দেননি তিনি। তবে, তার ছোট ভাই রাসেলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Check Also

পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় নওয়াজউদ্দিনের মা

সংবাদবিডি ডেস্ক । পুত্রবধূর সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে অশান্তি। ঝগড়া না করে সোজা পুলিশের দ্বারস্থ হলেন …