পাচ বছর পর আত্মসাত করা অর্থ ফেরত দিয়ে পার পেলেন ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা আজাদ আলী

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গ্রাহকের টাকা আত্মসাত করা অর্থ ফেরত দিয়ে পার পেলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর আজাদ আলী। সম্প্রতি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে এক গ্রাহক তার মৃত্যুদাবীর ৫৩ হাজার ৩শ টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন। তারই প্রেক্ষিতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আজাদকে আত্মসাতের টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেই টাকা কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পে লিখিত করে আত্মসাত করা টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর আজাদ আলী। গ্রাহকের অভিযোগে জানা যায়, ২০০৯ সালে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের বারুই পাড়ার মৃত নজরুল ইসলাম পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর আজাদ আলীর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার একটি একক বীমা করেন। ২০১১ সালে তিনি হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন। ওইদিনই নির্বাচন কেন্দ্রে সঙঘর্ষে তিনি নিহত হন। বীমার নিয়ম অনুযায়ী কোনো গ্রাহকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তিনি বীমা অংকের দ্বিগুণ টাকা ফেরত পাবেন। সেই হিসেবে নজরুল ইসলামের পরিবার ১ লাখ ৩ হাজার ৩শ টাকা পা্বেন। পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে নজরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের নামে ২০১২ সালে ১ লাখ ৩ হাজার ৩০০ টাকার একটি চেক্ও ইস্যু হয়। কিন্তু তাকে ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা আজাদ বলেন, শুধুমাত্র বীমার অংক অর্থাত ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সরল মনে তাই বিশ্বাস করে নেন নিহত নজরুল ইসসলামের স্ত্রী। তখন ওই ৫০ হাজার টাকা সাবিনা ইয়াসমিনকে না দিয়ে তার মেয়ের নামে একটি বীমা করে দেন আজাদ। এবং বাকি ৫৩ হাজার ৩শ টাকার চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আজাদ আত্মসাত করেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পারেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরে এ বিষয়ে কোম্পানির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপরই টনক নড়ে কর্মকর্তাদের। অবশেষে আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন আজাদ। গতকাল দামুড়হুদা চৌরাস্তা এলাকায় আত্মসাত করা টাকা ফেরত দেয়ার সময় আত্মসাতকারি ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা আজাদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, হাউলি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জহির উদ্দিন, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ডিপিডি গোলাম সরোয়ার, এপিডি সালাউদ্দিন বিশ্বাস মিলন, নিহত নজরুলের ছেলে নাজমুলসহ অনেকে। এ বিষয়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিনিয়র ম্যানেজার জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রাহকের প্রাপ্য বীমা অংকের দ্বিগুন টাকা সাবিনা ইয়াসমিনের নামে চেক ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএম ইউসুফ আলীর সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকরা আশংকায় রয়েছেন তাদের বীমা নিয়ে। তারা বলছেন, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকের টাকা নিয়ে গড়িমশি না করলেও আজাদের মতো এমন কর্মকর্তারাই কোম্পানীর সুনাম ক্ষুন্ন করছেন। কোম্পানীর ইস্যুকৃত সাবিনা ইয়াসমিনের চেকের সেই টাকা কিভাবে আজাদ ক্যাশ করলেন সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আজাদকে বহিষ্কার করারও দাবি তুলেছেন সাধারণ গ্রাহকরা

Check Also

খালেদা জিয়া বাসায় ফিরতে পারেন আজ

আদালত প্রতিবেদক ঃ দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ বাসায় ফিরতে পারেন …