নেতা শূন্য হয়ে যাচ্ছে বিএনপি!

নিউজ ডেস্ক:দলের নতুন নির্বাহী কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ পাননি বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা। পদ না পেয়ে ‘ক্ষোভে অভিমানে’ রয়েছেন দূরে সরে। অনেকেই আবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, নাজিম উদ্দিন আলম, আব্দুস সালাম, ফজলুল হক মিলন, হাবীবুর রহমান হাবীব, আবুল খায়ের ভুইয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, জাফরুল হাসান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মিজানুর রহমান মিনু, তৈমুর আলম খন্দকার, আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শিরিন সুলতানা, নিলুফা চৌধূরী মনি, শামীমুর রহমান শামীম, আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন অন্যতম।
এসব নেতার সবাই বিএনপির রাজনীতিতে খুবই পরিচিত মুখ। প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বা পদাবনতি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা রাজনৈতিক কর্মকা- থেকে নিজেদের অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন। আগের মতো দলীয় সভা-সমাবেশ, কেন্দ্রীয় বা গুলশানে বিএনপির হাইকমান্ডের কার্যালয়েও দেখা যায় না তাদের।

সবশেষ কাউন্সিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ পাওয়া শাহ মোয়াজ্জেম প্রত্যাশিত ‘স্থায়ী কমিটির সদস্য’ পদ না পেয়ে ছিলেন ক্ষুব্ধ। এতে তার অনুসারীরা হতাশ হয়। বেশির ভাগ সময় নিজেকে আড়াল করে রাখেন এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ।
সবশেষ ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের স্মরণসভায় বক্তা ছিলেন তিনি। সভায় বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শাহ মোয়াজ্জেম কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়েই রাজনীতিতে আর না থাকার কথা ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণায় ঝরে পড়েছে অভিমান।
এই প্রবীণ রাজনীতিক বললেন, “বিএনপির কাউন্সিল হলো, কমিটি হলো, অনেকে অনেক পদ পেয়েছে। আমি সেসব নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আজকে অনেকে এসেছেন, আমি কিছু বলব তা শুনবেন। কিন্তু আমি আজ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলব না। আজকে এ মুহূর্ত থেকে আমি আর রাজনীতিতে থাকছি না।”
আব্দুল্লাহ আল নোমানের অনুসারীরাও প্রত্যাশা করেছিলেন, বার বার বঞ্চিত হওয়া এ প্রবীণ নেতাকে এবার (গত কাউন্সিল) নিশ্চই স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হবে। তা না করায় শুধু তার অনুসারীরা নন, নোমানও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এর পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকা-ে তার অংশগ্রহণ খুব কম।
গত কাউন্সিল ‘আমান উল্লাহ আমান খালেদা জিয়ার কামান’ খ্যাত নেতাকে দেয়া হয় উপদেষ্টা পদ। এতে করে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েন সাবেক এই ডাকসাইটে ছাত্রনেতা এবং তার অনুসারীরা। ইদানীং সভা সমাবেশে তাকে দেখা যায় না বললেই চলে।
সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু এবং দলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে করা হয়েছে উপদেষ্টা।
ফজলুল হক মিলন ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। তার কোনও পদোন্নতি হয়নি। ক্ষোভে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে শোনা যায়।
আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শিরিন সুলতানা ও শামীমুর রহমান শামীম ক্ষোভে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও তিন বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে দেয়া হয়েছে নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ।
এসব নেতার অনেককেই চেয়ারপারসনের উপদেস্টা পদ দেয়া হয়েছে। নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী এই পদকে তারা অপমানজনক মনে করছেন।
তাদের মতে, উপদেষ্টা পদটি সাংগঠনিক পদ নয়। এটা সম্মানজনক পদ। এ পদে থেকে কাজ করার সুযোগও কম।
এসব বিষয়ে অধিকাংশ নেতার সঙ্গে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানিত করতে না পারলেও অপমান করার অধিকার কারও নেই। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। সবাই চেনে জানে। কোনও কারণে কাক্সিক্ষত পদের অযোগ্য বিবেচিত হলাম তাও জানি না।
তারা বলেন, এমন একটা ভাব যেন আমরা বিএনপির কেউ নই। ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হবেই। কাজ করছি না, দূরে থাকছি- এটা বললে ভুল হবে। কাজের সুযোগ কম, দলের প্রয়োজনে সবসময় প্রস্তুত আছি।
দলের হাইকমান্ড ভুল বুঝতে পেরে আবার তাদের সম্মানিত করবে- এমনটাই আশা বঞ্চিত নেতাদের।
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরা সবাই আমাদের এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের সহকর্মী। প্রতিটি দলের পদ পদবীর প্রতিযোগিতা আছে থাকবে। কেউ কাক্সিক্ষত পদ পান আবার কেউ পান না। কেউ না পেয়ে ক্ষোভে অভিমানে হয়তো কিছুদিন নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। কিন্তু যখন দলের প্রয়োজন হবে তারাই তখন ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তাদের যোগ্যতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ আগস্ট বিএনপির ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটি ছাড়া ১৭ সদস্যের স্থায়ী কমিটি ও ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ১৯ মার্চ ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের চার মাস ১৬ দিন পর এ কমিটির ঘোষণা করে বিএনপি। সূত্রঃ নিউজিবাংলাদেশ

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …