জঙ্গি আস্তানা ছড়িয়ে পড়ছে তৃণমূলে?

ডেস্ক রিপোর্ট : মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের সীতাকু-, সিলেট, মৌলভীবাজার ও কুমিল্লায় সাতটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে সিলেটে শিববাড়ির আতিয়া মহলের জঙ্গিদের পরাস্ত করতে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোরদের অভিযান চালাতে হয়েছে। এই আস্তানার জঙ্গিরা প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী বিস্ফোরক নিয়ে অবস্থান করছিল।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জঙ্গিরা ছোট ছোট শহরে আস্তানা গেড়েছে। তারা মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতেই রাজধানী ছেড়ে তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকু-ের প্রেমতলায় ‘ছায়ানীড়’ ও ‘সাধনকুটির’ নামের কাছাকাছি দুটি বাড়িতে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে পুলিশের বিশেষায়িত টিমের অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৩ মার্চ সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে আরও একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। এই আস্তানায় জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। প্যারা-কমান্ডোরা চার দিনের অভিযানে তাদের পরাস্ত করে। ২৮ মার্চ সেনাবাহিনী অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে। এখানে একজন নারীসহ চারজন জঙ্গি নিহত হয়।
সিলেটের জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলসিলেটের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ হতেই এদিন (২৮ মার্চ) গভীর রাতে মৌলভীবাজার শহর ও শহরতলীর দুটি বাড়িতে পৃথক দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। এর মধ্যে আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় একটি বাড়িতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশের সোয়াট টিম। অন্য বাড়িটিও সকাল থেকেই ঘিরে রাখা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনে আরও একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। এই আস্তানাটিও ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের জঙ্গি আস্তানার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
আর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গিরা এখন তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল খুঁজে আস্তানা গড়ার চেষ্টা করছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জঙ্গিরা ধরা পড়ার পরও আত্মসমর্পণ না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি অর্জন করেছে। সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে জঙ্গিদের বেশ তৎপরতা রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে চলতে পারছে।’
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উন্নতি করেছে। জনগণও সচেতন হয়েছে। সে কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গিরা ধরা পড়ছে। তবে তাদের নির্মূল করা যাচ্ছে না। তারা আরও কোথায় কোথায় আছে, কিভাবে আছে হয়তো তা আমরা জানি না। তাদের একেবারে নির্মূল করা যাবে না। জঙ্গিরা মূলত ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। তারা নতুন নতুন টার্গেট নির্ধারণ করছে। তাদের বেশিরভাগ টার্গেটই হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।’
এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘জঙ্গিরা একেবারে গ্রামে আস্তানা করতে পারবে না। তবে ছোট ছোট শহরগুলোতে তারা আস্তানা তৈরি করছে। কারণ এসব শহরে প্রতিবেশীদের মধ্যে আসা-যাওয়ার মানসিকতা বা সামাজিকতার চর্চা আগের চেয়ে কমে গেছে। তাই জঙ্গিরা সহজে আস্তানা গড়তে পারছে। তবে গ্রামে তারা এটা পারবে না। তারা মূলত শহরগুলোতেই মানুষের চোখের বা নজরদারির আড়ালে থাকছে।’
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘সিলেট, মৌলভীবাজার ও কুমিল্লায় জঙ্গি আস্তানা খুঁজে পাওয়ায় সারাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের অংশ হিসেবে সারাদেশে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে ও থাকবে।সূত্রঃ  বাংলা ট্রিবিউন

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …