ঢাকাকে ভেঙে নতুন বিভাগ করা হবে ,ফরিদপুরে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

 নিউজ ডেস্ক:আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম কখনো জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। জঙ্গিরা ইসলামকে হেয় করছে। তারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মান-সম্মান নষ্ট করছে। একটা ছেলেমেয়েও যাতে জঙ্গিবাদের পথে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য তিনি অভিভাবক, প্রশাসন, ইমাম ও শিক্ষকদের অনুরোধ করেন। গতকাল বিকালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। ৯ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফরিদপুর আগমন উপলক্ষে পুরো জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা  গেছে। জেলার বিভিন্ন থানা, ইউনিয়ন এবং আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে জনসভায় উপস্থিত হন। তাকে এক নজর দেখার জন্য জেলা শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। জনসভায় বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১২টি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের শ্বশুর এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে খাবার খান। জানা গেছে, দীর্ঘ ৯ বছর পর মেয়ের বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী।   শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে উপস্থিত জনতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষেরা যখনই নৌকায় ভোট দিয়েছে, তখনই তাদের উন্নতি হয়েছে। ২০১৯ সালে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন, যাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শেষ করতে পারি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনসভায় উপস্থিত সবার কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন? দুই হাত তুলে বলেন। ’ তখন সমবেত সবাই দুই হাত তুলে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, আমরা যখন জনগণের উন্নয়নে কাজ করি তখন বিএনপি-জামায়াত জ্বালাও-পোড়াও করে আর জঙ্গিবাদ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ফরিদপুরবাসী ভুলে যাননি ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে কীভাবে এই অঞ্চলের মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। সেই সময়ে তারা সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের অত্যাচারের চিহ্ন প্রতিটি ঘরে ঘরে রয়েছে। তিনি বলেন, তারা এখানেই থেমে থাকেনি। ২০১৪-১৫ সালে আন্দোলনের নামে মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। অবরোধ দিয়ে ৯২ দিন জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছে। সেই অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা তিনি এখনো দেননি।   সেই সময়ে বাস-ট্রাক, রেলে অগ্নিসংযোগে চিত্র তুলে ধরে  শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাস কিনি, আর তারা আগুন দিয়ে পোড়ায়। তাদের রাজনীতি কি পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পোড়ানো? এই কাজে হুকুম দেয় কে? এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে উত্খাত না করে তিনি ঘরে ফিরে যাবেন না। কিন্তু দেখা গেল তাদের এই অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে যখন দেশের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলল, তখন তিনি বাধ্য হন, নাকে খত দিয়ে ঘরে ফিরে যেতে। ফরিদপুরকে নতুন বিভাগ করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ঢাকাকে ভেঙে ময়মনসিংহ বিভাগ করেছি। ঢাকাকে ভেঙে নতুন আরেকটি বিভাগ হবে। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর নিয়ে এই বিভাগ হবে। এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা আছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র পাল্টে যাবে। আমরা কৃষকদের বিনামূল্যে সার দিয়েছি। খাসজমি ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দিয়েছি। তিনি বলেন, একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যাদের ঘর-বাড়ি নেই তাদের প্রত্যেকের জন্য সরকার ঘর তৈরি করে দেবে। সাম্প্রতিক দেশে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রছাত্রীদের কাজ পড়াশোনা করা। তাদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ পরিহার করতে হবে। নিজের ছেলেমেয়ে কার সঙ্গে মেশে, কার সঙ্গে চলে তা দেখতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। ইসলাম হামলা ও আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া সমর্থন করে না। যারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের পথে গেছে তারা ইসলামের বদনাম করছে, মান-সম্মান নষ্ট করছে। তারা যাতে এ পথ পরিহার করে সবাইকে সে চেষ্টা করতে হবে। এ সময় তিনি স্কুল-কলেজে কোন কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে সে ব্যাপারে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে বলেন। ফরিদপুরবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের জন্য আজ অনেক উপহার নিয়ে এসেছি। এই এলাকা সব সময় অবহেলিত ছিল। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরে কোনো সরকার উন্নয়ন করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে ফরিদপুরের সব উন্নয়ন করেছি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কাজী জাফর উল্লাহ, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, দীপু মনি, মুহম্মদ ফারুক খান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, হাবিবুর রহমান সিরাজ, এস এম কামাল হোসেন, মোল্লা আবু কাওছার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেসাম হোসেন বাবর, মাহমুদা বেগম, নাজমা আক্তার, সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন সমাবেশ পরিচালনা করেন।

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …