‘সড়ক পরিবহন আইন’ সংকীর্ণ ভূমিকা রাখবে : ইলিয়াস কাঞ্চন

নিউজ ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি ও সহকারীর যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৭ নামের একটি আইন তৈরি করেছে সরকার। এছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে এক মাসের কারাদ- এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকের যোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই আইন ভূমিকা রাখলেও, সার্বিকভাবে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয় এই আইন প্রণয়ন হয়নি।
যদিও সড়ক নিরাপত্তায় আন্দোলনকারীদের যে দাবি ছিলো তা এই আইনে বাস্তবায়ন হয়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিলো, চালকদের যোগ্যতা নূন্যতম মাধ্যমিক পাশ হতে তবে। তবে নতুন এই আইনে সেই দবি যথাযথ পূরণ না হলেও অন্তত শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি আইনের আওতায় আসায় সেটিকে স্বাগত জানাচ্ছেন তারা।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শুধুমাত্র চালকদের বিষয়ে যদি এই আইন হয় তবে তা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে খুব সংকীর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজন সড়ক নিরাপত্তায় একটি পূর্ণাঙ্গ আইন।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,আমরা শুধু চালকের শাস্তি নয় বরং দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছি। যারা লাইসেন্স প্রদান করেন, গাড়ির মালিকসহ যারা প্রকৌশলী আছেন তারাও হতে পারেন। আমরা সড়ক কেন্দ্রীক পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নে পরামর্শ দিয়েছিলাম। পাশাপাশি আইনের শিরোনামে নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্ত করার কথাও বলেছিলাম।
সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাসিব মোহাম্মদ আহসান বলছিলেন, পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে বাংলাদেশে দুর্ঘটনার প্রায় সবটাই চালকের দোষের কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধের শিক্ষাটাও জরুরি। তবে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গাড়ি চালনার পাশাপাশি অন্যান্য দিকগুলোও আইনের আওতায় আনলে ভালো হতো।
তিনি বলেন, কোন বিষয়েই হাত না দিলে সেটা নেতিবাচক হতো। তবে সব বিষয় যদি ইন্টিগ্রেটেডভাবে আনা যেত তাহলে সেটা আরো ভাল হতো।
ইলিয়াস কাঞ্চন মনে করেন, নতুন আইনে চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি হলেও সহকারির যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি রাখার ফলে সমস্যার তৈরি হবে। তিনি বলেন, ওস্তাদ-সাগরেদ সম্পর্কের মাধ্যমেই যেহেতু সহকারিরা পরবর্তীতে চালকে পরিণত হন, তাই সেখানে একটি সমস্যাটা তৈরি হতে পারে।
নতুন আইনে সড়কে পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো বা রেস করার ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে তিন বছরের কারাদ- অথবা ২৫ লাখ টাকা জরিমানারও বিধান রাখা হয়েছে। আইনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকার জরিমানা হতে পারে এবং এক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়াই চালককে গ্রেপ্তারও করা যাবে।
লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানোসহ নানা অপরাধে এই আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও, দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু বা ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার ফৌজদারী আইনেই হবে।সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …