সোনার থেকেও দামি সাপের বিষ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:দিন দিন চাহিদা বাড়ছে সাপের বিষের। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, মাদক এর নেশা জমানোর জন্য এখন মাদকে মেশানো হচ্ছে সাপের বিষ! ফলে জমে উঠছে এই বিষের অবৈধ ব্যবসাও। সোনার চেয়েও বাজারে সাপের বিষের দাম এখন বেশি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও মাদকাসক্ত লোকের অভাব নেই। এদের মধ্যে কিছু লোকের মাদকাসক্তি এমন স্তরে পৌঁছেছে, যে কোকেন, হেরোইন, মারিজুয়ানা এবং আফিমেও নেশাটা জমে উঠছে না।

তাঁদের নেশাকে আরও কড়া করতে মাদকে এখন মেশানো হচ্ছে সাপের বিষ। ফলে বেড়েছে বিষের দাম এবং ফুলে ফেঁপে উঠছে ড্রাগ সিন্ডিকেটের অবৈধ ব্যবসাও।

সাপের বিষ নিষ্কাশনের পর প্রথমে তা রাখা হয় খুব কম তাপমাত্রার আধারে। কিছুদিন পর তরল বিষ শুকিয়ে দানা বেঁধে গেলে তা গুঁড়ো করা হয়। তারপর তা মেশানো হয় মাদকে।

সাধারণত ১০০ লিটার মদে ১০ গ্রাম সাপের বিষের গুঁড়ো মেশানো হয়। ভারতে বিষ নিষ্কাশনের জন্য প্রধানত চার প্রজাতির সাপ ধরা হয়য়ে থাক-গোখরা, রাসেল ভাইপার, পিট ভাইপার এবং শাখামুটে। এই চার প্রজাতির সাপ ধরার পর দু-তিনবার বিষ বের করে আবার সাপগুলো জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষ নিষ্কাশনের পরপরই সেই বিষ চালান করা হয় দেশে এবং বিদেশে।

ফেব্রুয়ারি মাসে বন্যজীবন অপরধ দমন ব্যুরো এবং গুজরাটের বন বিভাগ আমির খান নামে একজন চোরা চালানকারীকে গ্রেপ্তার করেতার কাছ থেকে ৮০ মিলি লিটার সাপের বিষ উদ্ধার করা হয় যার বাজার দাম সাত-আট লাখ টাকা। জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে বিহারে ঢোকে সেই বিষ।

সম্প্রতি দিল্লির রাজধানী এলাকায় ধরা পড়ে সাপের বিষের আরো কিছু চোরা চালানকারী। উত্তর প্রদেশ রোডওয়েজের বাসে তারা যাচ্ছিল মিরাটের দিকে। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

তাদের কাছে ছিল সফটড্রিঙ্কের বোতলে ৫০০ মিলি লিটার সাপের বিষ। শুধু তাই নয়, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দু-দু`টো জ্যান্ত সাপও।

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে এ সব বিষ চালান হয়ে থাকে ইউরোপীয় দেশগুলিতেও, বলেন ‘পিপলস ফর অ্যানিমেলস` নামে এক এনজিওর কর্মকর্তা সৌরভ গুপ্ত। সাপের বিষ দিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলি তৈরি করে অ্যান্টি-ভেনাম সিরাম।

ভারতের বন্য জীবন মনিটারিং নেটওয়ার্ক সংক্ষেপে ট্রাফিক ইন্ডিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শাখার অধিকর্তা বলেন, “ওষুধের পাশাপাশি গবেষণার কাজেও ব্যবহার করা হয় সাপের বিষ।”

বছর দুই আগে মহারাষ্ট্র সরকার সাপের বিষের ব্যবসাকে বৈধ করতে চেয়েছিল। সাপুড়েদের সাপ ধরার অনুমতি দেওয়ারও সিদ্ধান্তও নিয়েছিল তারা। তবে বিষধর সাপ সবসময়ই বসতবাড়ি অঞ্চলে ঢুকে পড়ে। তাই ঠিক হয়েছিল যে সাপ ধরে সাপুড়েরা বিষ বের করে আবার বনে ছেড়ে দেবে এবং বছরে আট হাজারের বেশি সাপের বিষ বের করা যাবে না।

পরিবেশবিদরা এই সিদ্ধান্তে দ্বীমত প্রকাশ করে আশংকা ব্যাক্ত করেন যে এতে সাপের বিষের চোরাচালান বাড়বে, কমবে না।

উল্লেখ্য, সাপের বিষের ব্যবসা অসম্ভব লাভজনক। কোটি কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার হচ্ছে দেশের বাইরেও। এ মুহূর্তে এক লিটার সাপের বিষের বাজার দাম প্রায় চার কোটি টাকা।

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …