যে গ্রামে পর্যাপ্ত মদ আছে, কিন্তু খাওয়ার পানি নেই

যে গ্রামে পর্যাপ্ত মদ আছে, কিন্তু খাওয়ার পানি নেই

অনলাইন ডেস্ক:

গ্রামটিতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই পর্যাপ্ত মদ পাওয়া যায়। কিন্তু পানযোগ্য পানি সেখানে একেবারেই অধরা। খাওয়ার পানি আনতে তিন কিলোমিটার দূরে যেতে হয় গ্রামবাসীদের। কিন্তু সে পানিও পানের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত নয়। এমনই একটি গ্রাম রয়েছে ভারতে।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের কৃষ্ণা জেলার ওই গ্রামটির নাম কাপ্পালাডুড্ডি। গ্রামের প্রায় ৭০ ভাগ পরিবারই তাঁতি। যারা এখনো আধুনিক ভারত থেকে আড়ালে পড়ে রয়েছে।

গ্রামটিতে ৮৯০ ঘর মানুষের বসবাস। সেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মদের সরবরাহ থাকে, যা স্থানীয়ভাবে ‘লিকার’ নামে পরিচিত। এ নিয়ে গর্বও করে এ গ্রামের মানুষ।

ভারতের শুল্ক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ হাজার মানুষের জন্য একটি নিবন্ধিত মদের দোকান থাকতে পারে। কিন্তু তিন হাজার ২০০ মানুষের এই গ্রামটিতে ১১টি অনিবন্ধিত মদের দোকান রয়েছে।

ওই গ্রামের তাঁতি পারিশেঠী বাবু রাও ও পারিশেঠী গুরুমার্থী দ্য হিন্দুকে বলেন, ‘গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই ফুটপাতে মদের দোকান রয়েছে। অসময়েও আমাদের দোরগোড়ায় পর্যাপ্ত মদ থাকে। কিন্তু আমাদের হতাশার কারণ হলো, আমাদের সুপেয় পানি খোঁজার জন্য বাধ্য করা হয়।’

শারীরিক প্রতিবন্ধী বি রামু বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে রামারাজু খাল থেকে পঞ্চায়েত দুই অথবা তিন সপ্তাহ পানি সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু সেই পানিতে কাদা থাকায় আমরা খেতে পারি না।’

এ ছাড়া গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দূরে একটি খাল রয়েছে। যেখানে গ্রামবাসীর জন্য খাওয়ার পানি পাওয়া যায়। কিন্তু সেটিও মার্চের শেষের দিকে শুকিয়ে যায়।

গ্রামের এক প্রান্তে তিনটি কৃষি কূপ বসানো রয়েছে। অন্যান্য পরিবারের মতো গুরুমার্থীকেও এক পাত্র পানি আনতে গ্রামের সেই প্রান্তে যেতে হয়। সেখানকার পানির মান একটু ভালো।

সরকারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা ও উচ্চ মাত্রায় ফ্লোরাইডের কারণে ওই গ্রামের ভূগর্ভস্থ পানি পানের অযোগ্য। সেখানকার প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিগ্রাম ফ্লোরাইড পাওয়া গেছে। যেখানে প্রতি লিটার পানিতে ০.৬ মিলিগ্রাম ফ্লোরাইড থাকলে তা পান করার যোগ্য হয়।

যে গ্রামে পর্যাপ্ত মদ আছে, কিন্তু খাওয়ার পানি নেই

Check Also

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ কানাডার

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশ প্রকাশ করেছে কানাডা। এছাড়া নির্বাচনের আগে ও …