মাসে কোটি টাকা ব্যায়েও শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশি যাত্রী হয়রানি থামছে না

নিউজ ডেস্ক: হযরত শাহজালাল (র:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি যাত্রী হয়রানি চরম পর্যায়ে চলে গেছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার নামে বৃটিশ কোম্পানী রেড লাইনের পিছনে সরকার মাসে ১ কোটি টাকা ব্যয় করলেও শাহজালালের নিরাপত্তা ও যাত্রী হয়রানি দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারণ যাদের হাতে যাত্রীরা নিরাপত্তা পাবেন বলে আশা করে থাকেন সেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতেই বিদেশ ফেরত ও বিদেশগামী যাত্রীরা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা বিদেশ দেশে এসে বিমান থেকে নামার পর পরই হয়রানির শিকার হতে হয়। এক ঘাট পার হলে আরেক ঘাটে এসে হয়রানি শুরু হয়। খোদ স্বরাষ্ট্র সচিব বিমানবন্দরে নেমে এপিবিএন পুলিশ কর্তৃক হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরে অবশ্য স্বরাষ্ট্র সচিবের পরিচয় পেয়ে সংশ্লিষ্ট সিপাইর পক্ষে এপিবিএনের ঊর্ধতন কর্মকর্তা ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় পার পেয়েছেন। কিন্তু আনসার বাহিনীর সদস্য ও এপিবিএনের পুলিশের হাতে বর্হিগমন ও আগমনী নিরীহ যাত্রীরা রহরহ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একজন অধ্যাপক বিদেশ থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে হয়রানির শিকার হয়ে তার মতামত একটি জাতীয় দৈনিকে তুলে ধরেছেন।
সূত্র জানায় , সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিদেশ থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের অবতরণের পর বিভিন্ন সংস্থার কতিপয় অসাধু ব্যক্তির দ্বারা হয়রানির প্রথম পদক্ষেপ শুরু হয়। প্রথমেই ওই চক্র জানতে চায় যাত্রীর কাছে কোন ডলার পাউন্ড আছে কিনা, ট্যাক্সএবল পন্য আছে কিনা। এরপর যাত্রী কনভেয়ার বেল্টে আসার ১০ মিনিটের ল্যাগেজ পেতে সারাদিন এমনকি ল্যাগেজ না পেয়েও যাত্রীকে চলে যেতে হয়। অনেক সময় যাত্রীর ল্যাগেজ আর খুঁজেই পাওয়া যায় না। যাত্রী কনভেয়ার বেল্ট থেকে ইমিগ্রেশন কাজ সম্পন্ন করে কাস্টমস হলে আসার পর আবার দালালচক্রের মাধ্যমে হয়রানি হতে থাকেন। কাস্টমস হলের আশপাশে অনুমোদনবিহীন কয়েকটি মানি একচেঞ্চেজার দালালদের মাধ্যমে আবার হয়রানি হতে থাকেন। ওইচক্র ডলারের রেট বেশি দেয়ার কথা বলে যাত্রীকে কম রেট দিয়ে বিদায় করে দেয়। কাস্টমস হলে আসার পর যাত্রীর কাছে ট্যাক্সএবেল কোন পণ্য থাকলে ট্যাক্স কমানোর নামে বা ট্যাক্স মাফ করিয়ে দেবার জন্য একটিচক্র যাত্রীদের হয়রানি করতে থাকে। অনেক সময় কর্তব্যরত গোয়েন্দার হস্তক্ষেপে যাত্রী রেহাই পেয়ে থাকেন।
সূত্র জানায় , কাস্টমস হল থেকে সংশ্লিষ্ট যাত্রী নিরাপত্তা বেস্টনিতে আসার তার সাথে থাকা কাস্টমসের রশিদ চেক করার নামে কর্তব্যরত আনসার –এপিবিএন পুলিশের দ্বারা যাত্রী হয়রানি চলতে থাকে। এ সময় গ্রামের নীরিহ যাত্রীরা ভয় পেয়ে যান এবং আনসার- পুলিশকে কিছু দিয়ে পার পেয়ে থাকেন। এ ঝামেলার পর যাত্রী পরিবহন দালালদের খপ্পড়ে পড়েন। পরিবহন দালালরা যাত্রীদের নিজ গন্তব্যে পৌছে দেয়ার জন্য রেট অনুযায়ী ভাড়া ঠিক করে গাড়িতে ওঠিয়ে পথিমধ্যে গিয়ে নীরিহ যাত্রীকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সর্বস্ব কেড়ে নিতেও দ্বিধা করে না। তবে এ প্রবনতা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
সূত্রমতে একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সহধর্মিণী গত কয়েকদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে আসেন। শাহজালালে কাস্টমস হল থেকে বের হয়ে ক্যানপি এলাকায় আসার পর আনসার বাহিণীর সদস্য ও এপিবিএনের সদস্যরা তার কাছে কাস্টমসের রশিদ চেক করার নামে তার পথরোধ করে হয়রানি শুরু করেন। এরপর ওই ভদ্র মহিলা সাংবাদিকের স্ত্রী পরিচয় দেবার পর হয়রানি থেকে রক্ষা পান।
সূত্র জানায় , সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিদেশ যাবার সময় ডিপাচার লাউন্ঞে প্রবেশের পর থেকেই হয়রানি শুরু হয়। যাত্রীর ভিসা ও পাসপোর্ট বৈধ হওয়া সত্বেও নানা অজুহাতে তাকে হয়রানি করতে থাকে। আর অন্যদিকে গলাকাটা পাসপোর্ট ও জাল ভিসায় দুই নম্বরি পদ্বতিতে যাত্রী পাচার করে দেয়। এর সাথে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান ,সিএএবি, পুলিশ , আনসার বাহিনীর সদস্য, জনশক্তি কল্যান ডেক্স, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের সম্বন্বয়ে একটি চক্র বিমানবন্দর দিয়ে মানব পাচার করে দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিএএবির এক কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি হয় না তা অস্বীকার করা যাবে না, কমবেশি যাত্রী হয়রানি হয়েই থাকে। তবে তা আগের তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে।সূত্র:আমাদের সময়.কম

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …