লন্ডন হামলার নিন্দা বিশ্ব নেতাদের, সমবেদনায় আইফেল টাওয়ারের লাইট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে পার্লামেন্টের বাইরে ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজে পথচারীদের ওপর সন্ত্রাসীদের গাড়ির চাপা এবং ছুরিকাঘাতে একজন নারী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪০ জনের মতো।
আহত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। একজন সন্ত্রাসী ছুরি নিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আক্রমণ করলে অন্য পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। আক্রান্ত পুলিশ কর্মকর্তা পরে নিহত হয়েছেন।
বিশ্ব নেতারা লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বিশ্ব নেতাদের মতো ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারও নিহতদের সম্মানে মধ্য রাতে টাওয়ারের লাইট বন্ধ রেখে লন্ডন হামলার প্রতি সমর্থন জানায়। বুধবার সন্ধ্যায় রানী এলিজাবেথ ক্লক টাওয়ার যা বিগ ব্যান নামে পরিচিত এলাকাটি সন্ত্রাসী হামলায় রক্তে রঞ্জিত হয়।
প্যারিসের মেয়র হিডালগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তার শহর লন্ডনের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইফেল টাওয়ারের লাইট নিভিয়ে দিয়েছে। ব্রিটেনের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ভালোবেসে তাদের সম্মান দেখিয়ে আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্যারিসের এ নারী মেয়র।
৫এছাড়া ইসরায়েলের তেল আবিব সিটি হলের পতাকাও অর্ধনমিত করা হয় লন্ডন হামলার সমবেদনা জানিয়ে। তেল আবিবের মেয়র রন হোলদাই জানিয়েছেন লন্ডন হামলার সমকেদনা জানাতে সিটি হল বিল্ডিং লাল, সাদা ও নীল আলোতে সজ্জিত করা হয়েছে। হামলার পর এক টুইটারে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদ ও জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মেরকেল দুইজনই লন্ডন হামলার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্যারিসের বাইরে থাকা সফরে থাকা প্রেসিডেন্ট ওলাদ হামলার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়া ওই হামলার নিন্দা জানান। ওলাদ বলেন, আমি ব্রিটেনের লন্ডনে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
ওলাদ আরো সাংবাদিকদের আরো বলেন, আমরা এই হামলার জন্য খুবই উদ্বিগ্ন। ব্রিটেনের মানুষের কষ্ট ফ্রান্সের মানুষ অনুধাবন করতে পারে। ফ্রান্সে কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা হওয়ায় আমাদের মানুষ জানে হামলার কষ্ট কতটুকু। ব্রিটেনকে অবশ্যই এই হামলার পেছনের ব্যক্তিদের বের করতে হবে। আর এটি করতে হবে ইউরোপীয় পর্যায় থেকে। এই জন্য সবাইকে এক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এঞ্জেলা মেরকেল বলেন, আমি জার্মানির পক্ষ থেকে বলতে চাই ব্রিটেনের সরকারের পক্ষে আমরা রয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যে কোনো কার্যক্রমে আমরা সহায়তা করবো। জার্মানির সব জনগণ ব্রিটেনের আহত ও নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।
লন্ডনের বিগ ব্যানে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট দালিয়া গ্রাইবুসাকিত। বলেন, ওয়েস্ট মিনিস্টারের বুকে হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জনাকীর্ণ পর্যটন এ শহরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন দালিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও লন্ডন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হামলার পরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ব্রিটেনকে যে কোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
লন্ডন হামলার পর হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিটিশ সরকার চাইলে মার্কিন সরকার যে কোনো সহায়তা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে চাইলে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টেলিফোনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর তড়িৎ ও কার্যকরি পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন বলে হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো লন্ডন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বলেন, আমাদের চিন্তা হচ্ছে লন্ডন হামলার ভিকটিমদের জন্য। যুক্তরাজ্যের মানুষের জন্য কানাডার মানুষ আজ এক্যবদ্ধ। সবাই আমরা ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
২নিন্দা জানিয়েছেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিষ্টার নিকোলা স্টারজন। বলেন, নিহতদের জন্য আমরা খুবই দুঃখিত। হামলাটি সকলকেই আঁতকে দিয়েছে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান মর্মান্তিক হামলাটির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেন। তিনি তার ভিডিওটিতে বলেন, আমার হৃদয় বিমর্ষিত হয়ে পড়েছে তাদের জন্য যারা এই হামলায় স্বজনদের হারিয়েছে। যারা এই হামলায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের দ্রুত আরোগ্র কামনা করছি।
সাদিক খান আরো বলেন, আমি লন্ডন পুলিশ ও লন্ডনের নাগরিকদের কাছে এই ঘটনায় তাদের সাহসিকতাপূর্ণ মনোভাবের সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃকজ্ঞতা জানাই।
১বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল লন্ডন হামলার নিন্দা জানান। বলেন, আমরা হামলায় নিহত ও আক্রান্তদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। বেলজিয়াম জঙ্গি দমনে ব্রিটেনের পাশে থাকবে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন লন্ডন হামলার নিন্দা জানান। বলেন, হামরার ঘটনাটি লন্ডনের জন্য অনেক মর্মান্তিক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ব্রিটেনের বন্ধুদের জন্য আমার চিন্তাধারা ও সহায়তা রয়েছে।
৩নেদারল্যান্ডেসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতেও লন্ডন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বলেন, এটি লন্ডনের ভয়াবহ ও মর্মান্তিক একটি ঘটনা। এই ঘটনাটি সকলকে মর্মাহত করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। গার্ডিয়ান, ডেইলি মেইল, ইন্ডেপিনডেন্ট অবলম্বনে

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …