সরকারি রাজেন্দ্র কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা সময়ের দাবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ আগামী ২৯ মার্চ ফরিদপুর সফর করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে ফরিদপুরবাসীর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের প্রাণের দাবি সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হোক। ভৌগলিক কারণে এ দাবির অনেক যেীক্তিকতা রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই ফরিদপুরে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হয়ে উঠে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত ছিলেন তারা সকলেই ফরিদপুরের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরন করেন।

জিয়া সরকারের সময়ে ফরিদপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি উঠে। সেসময় পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার আশ্বাসও পাওয়া যায়। যা পরবর্তীতে আর হয়নি। এরপর এরশাদ সরকারের শাসনামলে ফরিদপুর শহরেই একটি মহিলা ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। শহরের রাজবাড়ি রাস্তার মোড়ে কিছু জমিও এজন্য অধিগ্রহন করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকারের কতিপয় আমলার বিরোধিতার কারণে তাও বেহেস্তে চলে যায়। এরপর বৃহত্তর জেলাসূহে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকে পুরাতন জেলা ফরিদপুরে এ বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অজ্ঞাতকারণে তা গোপালগঞ্জে স্থানান্তরিত করা হয়। এসব বর্ণনা দেবার একটাই কারণ স্বাধিনতার পর থেকেই শিক্ষাখাতে ফরিদপুর জেলা বিমাতাসুলভ আচরন পেয়েছে সরকারগুলোর কাছ থেকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহত্তর ফরিদপুরের সন্তান। জাতির জনক বঙবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত এ ফরিদপুর। বঙবন্ধুর ফরিদপুরে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ফরিদপুরবাসী এখন মুখিয়ে আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে।

কেন রাজেন্দ্র কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করতে হবে সেদিকে একটু চোখ বুলিয়ে নেই। সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে সুদীর্ঘ এক ইতিহাস। ফরিদপুর শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পূর্বে রাজেন্দ্র কলেজের মূল ক্যাম্পাস অবস্থিত। শাখা পদ্মা নদীর পশ্চিম প্রান্তে মোট প্রায় ৫৪.১ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মূল ক্যাম্পাস। তাছাড়া রাজধানী ঢাকা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অবস্থান। এবার যাওয়া যাক কলেজে প্রতিষ্ঠার পেছনের দিককার ইতিহাসে।ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ফরিদপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। কেননা এ সময় ফরিদপুর জেলায় ৩৫টি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে ফরিদপুর শহরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি উস্থাপিত হয়। কিন্তু সেসময় স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হন। অতঃপর ফরিদপুরে কলেজ প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন জেলার বিখ্যাত আইনজীবি এবং প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা (অবিভক্ত কংগ্রেসের সভাপতি) অম্বিকাচরণ মজুমদার।

1485705098_p-3

১৫ নভেম্বর ১৯১৫ সালে অম্বিকাচরণ মুজমদার ফরিদপুরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করে ফরিদপুর শহরে একটা ২য় গ্রেডের কলেজ স্থাপনের রূপরেখা প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করেন। উক্ত কমিটি কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য ৮০ হাজার টাকার প্রাথমিক তহবিল গঠনের সুপারিশ করে। শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীদের নিকট হতে মাত্র ৪০ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়। বাকি টাকার জন্য অম্বিকাচরণ ভাবতে থাকেন। তিনি ফরিদপুর জেলার বাইশরশির জমিদার রমেশ নারায়ণ রায় চৌধুরীর নিকট আর্থিক সহায়তার বিষয়টি উত্থাপন করেন। রমেশ নারায়ণ রায় চৌধুরী কলেজের নাম তাঁর স্বর্গীয় পিতা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর নামে করার শর্তে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করেন।

কলেজ কমিটি উক্ত প্রস্তাবে স্বীকৃত হয়ে কলেজের নামকরণ করেন ‘‘রাজেন্দ্র কলেজ’’। অম্বিকাচরণ মজুমদারের প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১৮ সালের ১৩ মে ভারত সরকারের নিকট হতে রাজেন্দ্র কলেজ অধিভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এই হলো ঐতিহ্যবাহী কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। এরপর হাঁটি হাঁটি পা পা করে কলেজের পরিধি বাড়তে লাগলো। সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মূলত ২টি ক্যাম্পাসে বিভক্ত। এই ২টি ক্যাম্পাসের একটি ফরিদপুর শহরের মধ্যেই ফরিদপুর স্টেডিয়াম এর পাশে অবস্থিত। একে ডিগ্রী শাখা বা শহর শাখা বলা হয়ে থাকে। অন্যটি শহর থেকে কিছুটা দূরে বায়তুল-আমান এলাকায় অবস্থিত। এটিকে অনার্স শাখা বা বায়তুল-আমান শাখা বলা হয়ে থাকে।

উপরোক্ত কারণ বিশ্লেষন করলে সরকারী রাজেন্দ্র কলেজের রয়েছে ঐতিহ্যের ইতিহাস। এ ইতিহাসের সূত্রধরে ফরিদপুরবাসীর প্রাণের দাবী দক্ষিণাঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারী রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হোক।

লেখক:

ওয়াহিদ মিল্টন
সম্পাদক ও প্রকাশক , দৈনিক ফরিদপুর কন্ঠ
প্রধান সম্পাদক, সংবাদ বিডি ডটকম

Check Also

এখন সংলাপের সুযোগ নেই

সংবাদবিডি ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, …