জুতায় বাংলাদেশের পতাকা, সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো জ্যাজল

নিউজ ডেস্ক:জুতায়, স্যাণ্ডেলে, স্নিকারে বাংলাদেশের পতাকার আদলে ডিজাইন করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিবাদের মুখে ওয়েবসাইট থেকে পণ্য সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জ্যাজল। গতকাল জ্যাজলের মূল ওয়েবসাইট থেকে পতাকার আদলের জুতা সরিয়ে ফেলা হলেও ক্যাফেপ্রেসের সাইটে এখনও খণ্ড-বিখণ্ড মানচিত্রওয়ালাকিছু স্যাণ্ডেলের ছবি শোভা পাচ্ছে। আর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। তবে অনেকে সাবধান হতে বলছেন এখনই।জামা-ওড়না-শাড়িতে পতাকা আমাদের দেশেই আনা হচ্ছে, সেখানে অন্যরা যদি আরও ভয়ঙ্কর কিছু করে বসে, সেক্ষেত্রে প্রতিবাদ করে সবসময় খুব বেশি কিছু করা সম্ভব নাও হতে পারে।

অনলাইন কেনাকাটার ওয়েবসাইট জ্যাজলে সম্প্রতি লাল-সবুজ রঙের অনেক পণ্যের সঙ্গে জুতাও বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনেকের নজরে আসে। তারা বলছেন, অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রেই পতাকার আদলে পোশাক, জুতা বানানোর প্রবণতা দেখা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস রক্তের বিনিময়ে অর্জন। আমরা আমাদের অর্জন জুতায় দেখতে অভ্যস্ত না।

তবে গত শুক্রবার রাতের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  সমালোচনার ঝড় আরও বেড়ে যাওয়ার আগেই জ্যাজলের ওয়েবসাইটে জুতাগুলো দেখা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশে পতাকার রঙে অন্য সামগ্রীগুলো রয়েছে।

জ্যাজলের নতুন পণ্যগুলোর মধ্যে দেখা যায়, ‘বাংলাদেশি ফ্ল্যাগ: শ্যামরক ফ্লিপ ফ্লপস’, ‘বাংলাদেশি ফ্ল্যাগ: লো টপ ও হাই টপ স্নিকারস’, ‘আই লাভ বাংলাদেশ উইথ ম্যাপ স্লিপ অন স্লিকারস’, ‘আই লাভ বাংলাদেশ উইথ ম্যাপ স্লিপ অন স্নিকারস ম্যাপ হাই টপ স্লিকারস’।জ্যাজলের তথ্যমতে, বাংলাদেশি পতাকার রঙের জুতাগুলো তৈরি করেছে ডেল্টা কাস্টম, নকশা করেছে শাওলিনমড।

জ্যাজলকে প্রতিবাদ জানিয়ে মেইলটি পাঠানো হয়। সেটি তৈরি করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক সুমন দেবনাথ। তিনি  এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গত ১৬ মার্চ থেকেই বিষয়টা অনলাইনে সবার টাইম লাইনে ঘুরাঘুরি করছিল। ১৭ মার্চ দেখলাম প্রতিবাদটা ঠিক জায়গা মতো হচ্ছে না, তাই আমি বসলাম কিভাবে কি করা যায় তা নিয়ে প্রথমেই তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের কোম্পানি পলিসি পুরোটা ডাউনলোড করি। পরে তাদের কপিরাইট পলিসি সব স্টাডি করার পরে দেখলাম যে, একমাত্র আমরা যদি কপিরাইট ক্লেইম করি তাহলেই সম্ভব এই প্রোডাক্টটি তাদের সাইট থেকে ডিসকন্টিনিউ করা। সেই ভাবনা থেকেই মাথায় আসে ফেসবুকে আমার সকল বন্ধুদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করার। সেই ভাবনা থেকেই শুরু।তাদের ম্যানেজারকে উদ্দেশ করে একটা ইমেইল করলাম এবং সবাইকে রিকোয়েস্ট করলাম, তাদের সবাইকে ইমেইল করার জন্য।যেহেতু তারা একটা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি তাই বিশ্বাস ছিল পজিটিভ একটা রেজাল্ট পাবো।-বাংলা ট্রিবিউন

Check Also

এখন সংলাপের সুযোগ নেই

সংবাদবিডি ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, …