কড়াইল বস্তিতে খাবারের জন্য হাকাকার।

জাহাঙ্গীর সুমন,

কড়াইল বস্তি থেকে: হামাগেরেক কিছু খাবার দিয়া যাও বাহে, তিনখান সইল (সন্তান)ই ভোর থাকি না খেয়া আছে,আগুনে পোড়া বস্তির ধ্বংসস্তুপে বসে বিকাল সাড়ে চারটায় নিজের অভুক্ত সন্তানদের জন্য খাবারের জন্য মানুষের কাছে এভাবে খাবার চাইছিলো বগুড়া থেকে জীবিকার সন্ধানে আসা কুলছুম বেগম (৪৮)স্বামী আর তিন সন্তান নিয়ে বস্তির পূর্ব দিকের হোসেন আলীর একটি ঘর ভাড়ানিয়ে আট বছর থেকে আছেন এই ঘরে। বুধবার মধ্যরাতের ভয়াবহ আগুনে নিজের ঘরের পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বাচাতে পারেনি কুলছুম বেগমের মতো আরো অনেক পরিবার।রাত থেকে বৃস্পতিবার ভোর পযর্ন্ত আগুন নেভাতে ক্লান্ত বস্বিবাসী। অনেকের শেষ সম্বল টুকুও পুরে গেছে আগুনে।সকাল থেকে বস্তিবাসীদের মাঝে খাবার সংকট দেখা দেয়।কড়া্ইড় বস্তির আশপাশের টং দোকানের শুকনা খাবার শেষ হয়ে যায় ভোরের সুর্য্য উঠার আগেই।দিনের আলো ফুটার সাথে সাথে বস্তির লোকজন খাবারের জন্য হাহাকার করতে থাকে। একমাসের ও কম সময়ের ব্যবধানে দু দফা আগুনে এমনি আতংকিত ছিলো এখানকার মানুষ। মধ্যরাতের আগুনে বস্তির আশিভাগ ঘরবাড়ী পুরে এখন পুরো বস্তির এক ধ্বংসস্তুপের রুপ নিয়েছে।পোড়া বস্তির ধ্বংসস্তুপের আসপাশে বসে বসে বিলাপ করছে অনেকে।মধ্য রাতের আগুন থেকে নিজেদের সম্পদ বাচাতে পাঁচ ঘন্টার পুরো বস্তির কয়েক হাজার মানুষ ছুটে বেড়িয়েছে। রাতের পর সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনেক মানুষই অনাহারে। দুপুরের আগে উত্তর সিটিকর্পোরেশনের মেয়র আনিছুল হক আসেন কড়াইল বস্তিতে। এসময় তিনি কর্পোরেসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার ও কাপড় আর রাতের জন্য তাবু সরবরাহের কথা জানিয়েদেন বস্তিবাসীদের। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহায়তার পাশাপারি সরকারী চাল ও শুকনা খাবার সরবরাহ করার কথা থাকলেও বিকাল নাগাত তার কিছুই পাঠানো হয়নি আগুনে পুরে যাওয়া বস্তিতে। প্রায় দুইযুগের বেশি সময় থেকে কড়াইল বস্তিতে বসবাস করে আসছেন হারেসমিয়া(৫৬), তিনি জানান, কড়াইবস্তির বউবাজার থেকে মধ্য রাতের দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একেএকে ১৯ টি ইউনিট পাচঁঘন্টা ধরে চেষ্টার পর আগুন নেভায়।ততকক্ষনে কড়াইল বস্তিএক ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়। ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক(অপারেশন ) মেজর শাকিল নেওয়াজ জানান, বউবাজারের একটি দোকানের সটসার্কিট থেকে আগুনের সুত্র পাত বলে তারা প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন। আগুনের কারন ও ক্ষতিপুরন রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠণ করেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার সকালে এ কমিটি গঠিত হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (উন্নয়ন) আব্দুল মান্নান। অন্য দুই জন হলেন ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিএডি আব্দুল জলিল ও তেজগাঁও স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফয়সলুর রহমান।

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …