শেষ বিকাল হতাশায় কাটালো বাংলাদেশ

শততম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটাও বলার মতো করে দেখানোর চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের উড়ন্ত সূচনায় দারুণ শুরু করেছিল। কিন্তু শেষ বিকালে এসে ৫ উইকেট হারিয়ে দিনটা হতাশাতেই শেষ করলো সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২১৪ রান।

দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য সরকারের জুটিবদ্ধ ইনিংসটাই মঞ্চ গড়ে দিয়ে গেছে। যাদের ওপর ভর করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে ১২৪ রানে।

তবে শেষ সেশনটা আরও রাঙানো যেত যদি না শেষ দিকে সান্দাকানের এক ওভারেই ফিরতেন ইমরুল ও তাইজুল। চায়নাম্যান রিভিউতে পর পর দুই বলেই এলবিডব্লুতে ফেরান ইমরুল (৩৪) ও তাইজুলকে (০)। পরের ওভারে লাকমলের শর্ট বলেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৪২ রানে ব্যাট করতে থাকা সাব্বির রহমান।
হতাশার এখানেই শেষ নয়। শুরুতে দলীয় ৯৫ রানে এক রানের আক্ষেপে ফিরেছেন ওপেনার তামিম। মাত্র এক রান দূরে থেকেই হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়ে বিদায় নেন, তাও আবার হেরাথের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোর হয়ে। তামিমের বিদায়ের পরই চা পানের বিরতিতে যায় দুই দল।

যদিও দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট করতে নেমে বেশ ভালোই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দেখে শুনেই খেলছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তামিম যখন ৪৯ রানে ব্যাট করছিলেন তখন হেরাথের বলে পরাস্ত হন, বল লাগে প্যাডে। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও শ্রীলঙ্কার রিভিউতে লেগ বিফোর হয়ে বিদায় নেন তামিম।

অবশ্য তামিম ব্যর্থ হলেও নিজের হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য সরকার। ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনিং এই ব্যাটসম্যান। তার ব্যাটে ভর করেই একটা সময় জবাব দিচ্ছিল বাংলাদেশ। তামিম ও সৌম্যের বানানো মঞ্চটা গড়ে নিচ্ছিলেন সৌম্য সরকারই। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬১ রানে সান্দাকানের দুর্দান্ত টার্নে থিতু হতে পারলেন না। বোল্ড হয়েই বিদায় নেন।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বাকি তিন উইকেট নেওয়ার মিশনে দ্বিতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথকে সাজঘরে পাঠিয়ে স্বস্তি ফেরালেও দিনেশ চান্ডিমাল বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় দিনও বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেঞ্চুরি করে ক্রিজ আঁকড়ে ধরে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরতে হয়। এর পর শেষ জুটিতে ‍সুরাঙ্গা লাকমল (৩৫) একটু মেরেই খেলেছেন। অপর প্রান্তে সান্ডাকান ছিলেন ধীরস্থির। তবে তাদের ৩৩ রানের জুটি ভেঙে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেন শুভাশীষ। শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ৩৩৮ রানে।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে উইকেট নেওয়া খুব প্রয়োজনীয় ছিল বাংলাদেশের জন্য। সেই কাঙ্ক্ষিত উইকেটের তারা দেখা পায় দিনের ৮ নম্বর ওভারে গিয়ে। সাকিব আল হাসান তার ২৫তম ওভারে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের উইকেট নেন। স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকার ক্যাচটি ধরেন।

রিভিউয়ে দুইবার জীবন পাওয়া চান্ডিমাল দ্বিতীয় দিনও প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিও তিনি পান ২৪৪ বলে। তবে তার ইনিংস থামে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ হয়ে। ৩০০ বলে ১৩৮ রান করেন চান্ডিমাল।

কলম্বোর পি সারা ওভালে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ভালো নয়। কিন্তু প্রথম দিন শেষে এবার আশার আলো দেখান মুশফিকুর রহিমরা। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আগ্রাসী বোলিংয়ে প্রথম দিন শ্রীলঙ্কা শেষ করেছিল ৭ উইকেটে ২৩৮ রানে। অথচ মাত্র ১৯৫ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কার ৭ উইকেট নিয়ে দারুণ কিছুর আভাস দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ তিন উইকেটে ১৪৩ রান যোগ করে স্বাগতিকরা।

কলম্বোর পি সারা ওভালে এই প্রথমবার শ্রীলঙ্কার সবগুলো উইকেট পেল বাংলাদেশ। এর আগে তিনবার এ ভেন্যুতে খেলেছিল দুইদল। প্রত্যেকবারই স্কোরবোর্ড শক্তিশালী করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল লঙ্কানরা, আর বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে।

Check Also

বিদেশে নয় দেশের মাটিতেই বিয়ের পরিকল্পনা রকুল-জ্যাকির

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ রকুল প্রীত সিং ও জ্যাকি ভাগনানির বিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রস্তুতি এখন …