কাপড় লন্ড্রি করে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রতিবন্ধী রুবেল!

জন্ম গত থেকে রুবেল মিয়া প্রতিবন্ধী। মাস দুই’ক হলো তাঁর বাবা মারা গেছেন। বাবা লন্ড্রি ও পানের দোকান করতেন। দারিদ্রতা থাকলেও ভালোই চলতো পাঁচ সদস্যর পরিবারটি। ভাগ্যের কি পরিহাস রুবেলের বাবার অকাল মৃত্যুতে তাকে সংসার দেখা শুনো করতে হয়।তাই বাবার ছোট লন্ড্রি ও পানের দোকান করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় রুবেল মিয়া তাঁর ব্যবসার পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধী রুবেল মিয়া দুই হাতের কবজি দিয়ে লেখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। রুবেল মিয়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সুকানদিঘী-বারাজান গ্রামের মৃত্যু মহাফেজ আলীর ছেলে। তার পুরো নাম মোঃ রুবেল মিয়া। প্রতিবন্ধী রুবেল কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে চলতি এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রতিবন্ধী  রুবেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে ভবিষ্যতে লেখাপড়া করে বড় হতে চায়। প্রতিবন্ধী রুবেলের এই সুখের দিনে তার বাবার অকাল  মৃত্যুতে তাকেই সংসার চালাতে হয়। তাই রাতে লন্ড্রি করেন। এক দিন লন্ড্রি না করলে যেন পরিবারের পাঁচ সদস্যকে উপস থাকতে হবে। তবে বাবা না থাকায় মায়ের প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী হয়েও সে সব কাজে সফলভাবে গড়ে উঠছে। রুবেল মিয়ার দু’টি হাত থাকলেও সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেকাংশে ছোট এবং আঙুলবিহীন। তার আঙুলবিহীন ছোট হাত দ্বারা সব ধরনের কাজ করতে সক্ষম হয়।সে সুকানদিঘী তেতুঁলিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সে দ্বিতীয় শ্রেণী হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ায় ভাল রেজাল্ট করে আসছে। তেতুঁলিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, রুবেল প্রতিবন্ধী হলেও তার মেধা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। তার হাতের লেখাও ভাল। সে তার পঙ্গু হাত দিয়ে লেখার পাশাপাশি সব ধরনের খেলাধুলা, বাই সাইকেল চালানো ছাড়াও অন্যান্য কাজ নিজে করতে পারে।এসএসসি পরীক্ষার্থী রুবেল বলেন, আমি অতি দরিদ্র পরিবারের ছেলে তাই আমি চাই লেখা-পড়া শিখে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে। মায়ের দরিদ্র সংসারকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলব। আমি সবার কাছে এজন্য দোয়া চাই।রুবেলের মা বলেন, আমার পাঁচ সদস্যের পরিবারে রুবেল দ্বিতীয় ছেলে। রুবেলের বাবা সুকানদিঘী বাজারে লন্ডি ও পানের দোকান করতেন বাবার মৃত্যুর পর তাকে এই ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয় যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়।তার সঙ্গে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতে কষ্ট হয়। রুবেলের মা বলেন, আমার আরেকটি বড় মেয়ে রয়েছে ঢাকায় আছেন সে একটি গার্মেন্টসে চাকিরি করেন মাসে অল্প কিছু পাঠান। এ দিয়ে কোন মতো সংসার চালাতে হয়।

Check Also

ফরিদপুরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন

সংবাদবিডি ডেস্ক ঃ ফরিদপুরে স্ত্রীর লোহার রডের আঘাতে খুন হয়েছে স্বামী। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার …