মৃত্যু ফাঁদের শহরে সাবধান !

তুষার আবদুল্লাহ : রাষ্ট্রীয় কাজের নানা বিষয় নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ অভিযোগ, অনুযোগ আছে। বিভিন্ন দফতর, সংস্থার কাজ ও তার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও আছে সংশয়। কোন কাজে কতো খরচ, যাকে কাজটি করতে দেয়া হচ্ছে সে কতোটুকু যোগ্য, এনিয়ে রাখঢাক বিস্তর। এই বিস্তরের সীমা-পরিসীমা নেই।
লোকে কোন দফতরে কি ঘটছে, কে কি উপায়ে কোন নির্মাণ কাজের সঙ্গে অক্ষমতা সত্ত্বেও যুক্ত হয়ে যাচ্ছে সেই খবর না পেলেও, তাদের কাছে উন্মুক্ত নির্মাণ প্রক্রিয়া বা কাজ। এই নির্মাণ প্রক্রিয়া যতো ঝুঁকিপূর্ণই হোক না কেন, সাধারণ মানুষ, পথচারী সার্কাস বা পথনাটক দেখার মতোই উন্নয়নের চালচিত্র দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
অথচ ব্যক্তি, বেসরকারি বা সরকারি উভয় নির্মাণ কাজেই ‘নিরাপত্তা প্রথম’ কথাটি অনুসরন করার কথা। এমন সাইনবোর্ড প্রকল্প এলাকায় প্রদর্শিত হলেও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তা মান্য করে না। নিশ্চিত করে না শ্রমিকের নিরাপত্তা। একই সঙ্গে প্রকল্প এলাকায় চলাচলকারী পরিবহন, পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়েও উদাসীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান।
ফলে রাজধানী, চট্টগ্রামসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।একেবারে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মানাধীন ভবনের উপর থেকে ইট পড়ে পথচারীর মৃত্যু হতে দেখেছি ঢাকার পান্থপথে। তারও আগে সাইন্সল্যাবরেটরী মোড়ে ফুটওভার ব্রীজ তৈরির সময় গার্ডার ভেঙ্গে একজন উর্দ্ধতন সরকারী কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
২০১২তে চট্টগ্রামে নির্মানাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙ্গে নয়জন নিহত হয়েছিল ঘটনাস্থলেই। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো পাঁচজনের মৃত্যুর কথা শোনা যায়। ২০১৩তে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়াতে নির্মানাধীন সেতুর গার্ডার ভেঙ্গে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ রোববার মধ্যরাতে নির্মানাধীন মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের গার্ডার তোলার সময় ক্রেন ছিঁড়ে একজন পথচারী নিহত হন। পা কাটা পড়েছে একজন পথচারী ও শ্রমিকের।
যেহেতু রাজধানীতে বসবাস করি, সেহেতু প্রতি মূহুর্তেই এই মৃত্যু ফাঁদ ডিঙিয়ে পথ চলতে হয়। প্রমোদগুণে যাই কখন কোন ইট, বা গার্ডার আমার উপর এসে পড়ে কিনা। দুই একবার কিছু টুকরো যে ছুটে এসে পড়েনি তা নয়। তার আঘাত মারাত্মক ছিল না। তবে পরিচিত অনেকেই নির্মানাধীন বাড়ি এবং স্থাপনা নির্মাণের এমন উন্মুক্ত প্রদর্শনের শিকার হয়েছেন। হারিয়েছেন শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
এই উন্মুক্ত নির্মাণ প্রদর্শনী চলছে ঢাকা সিটি করপোরেশন, রাজউকের মতো সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনেই। আরো অনেক দফতরই হয়তো আছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করতে। কিন্তু তারা বাধ্য করার নৈতিক অধিকার রাখেন না এই জন্য যে, নিজেরাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সেবা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা হয়ে নিজেরাই নাম লিখিয়েছে নির্মাতার খাতায়। শ্রমিক এবং সাধারণ নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়ে আইনের ঘাটতি নেই, সংস্থারও অভাব নেই। আছে অফুরন্ত উদাসীনতা। এবং চোখ বুঁজে রাখার অবসর।
এই অবসরেই মৃত্যু ফাঁদের সংখ্যা বাড়ছে। এবারও ঘটনা তদন্তে তৈরি হয়েছে কমিটি। সেই কমিটির রিপোর্টে দুর্ঘটনার সত্য কারণ উদঘাটিত হবে কিনা, প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত হবে কিনা, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের কোন আগ্রহ নেই। কারণ তারা জানেন প্রকাশ্য এই মৃত্যুফাঁদকে বরাবরই সুরক্ষাই দেয়া হচ্ছে।
একাধিক দুর্ঘটনার পরেও শ্রমিক ও পথচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না এক বিন্দুও। ফলে সাধারণ নাগরিকরা নিত্য মৃত্যু ফাঁদ ডিঙিয়েই পথ চলছেন, চলবেন। নিজেরাই সাবধানে থাকবেন। কারণ ফাঁদের শিকার হয়ে কোন দফতরকে বিব্রত করে কী লাভ? পরিবর্তন
তুষার আবদুল্লাহ : বার্তা প্রধান, সময় টিভি।

Check Also

বাজির শব্দে তছনছ হয়ে যায় রেমিনের জীবন

সংবাদবিডি ডেস্ক : ‘আমার মেয়েটা ছিল দারুণ মেধাবী। ক্লাস ফাইভ আর এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। …