দেশে বিস্তৃত হচ্ছে ভাস্কর্য নির্মাণ, চর্চা বাড়ে স্বাধীনতার পর

শিল্পকলার শাখাগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম ভাস্কর্য। এই শিল্প চর্চার ইতিহাস ও চর্চা প্রাচীন । দেশে আধুনীক ভাস্কর্যের চর্চা শিল্পী নভেরা আহমেদের হাত ধরে, পঞ্চাশের দশকে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শিল্প কর্মকে টিকে থাকতে হয়েছে। আজও বহু কঠিন বাস্তবতায় এগুচ্ছে।

পৃথিবীর প্রাচীন ভাস্কর্যগুলো শুধু পৃথিবীতই নয়, বাংলায়ও এই শিল্প মাধ্যমের প্রাচীন ইতিহাস বলে। জ্যামিতিক দৃষ্টিতে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতাসহ ত্রি-মাত্রিকতা থাকলে একটি শিল্পকর্ম ভাস্কর্য হয়। পাথর, ব্রোঞ্জ, কাঠ, পোড়ামাটি, হাড়, ঢালাইসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ভাষ্কর্য নির্মান করেছেন ভাস্কররা। প্রাচীনকালের আবিস্কৃত ভাস্কর্যগুলো প্রমাণ ভাস্কর্য শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল বাংলায়। আধুনিক সময়ের আগ পর্যন্ত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভাস্কর্যের শৈলীগত বিকাশ হয় তাই বিষয়টি খানিকটা জটিলও।

দেশে ভাস্কর্য তৈরির চর্চা শুরু হয় শিল্পী নভেরা আহমেদের হাত ধরে, ১৯৫৬ সালে। তখন ছবি আকাঁতেই বাঁধা দেয়া হত, কিন্তু নিজের বিশ বছর বয়সে নভেরা লন্ডনে ভাস্কর্যের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিতে শুরু করেন। দেশে ফিরে পাশ্চাত্য শৈলীর সঙ্গে দেশীয় শিল্পরীতির মিশ্রণে আধুনিক ভাস্কর হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাত্র চার বছরে শতাধিক কাজ করেন। তারপর নভেরা দেশ ছাড়েন, বাংলার শিল্পীদের ভাস্কর্য চর্চায় ভাটা পরে।

১৯৬৩ সালের আগ পর্যন্ত চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভাস্কর্য যুক্ত হয়নি। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের আগ্রহে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বাঁধা উপেক্ষা করে শিল্পী আবদুর রাজ্জাক আধুনিক ভাস্কর্য শিক্ষার প্রবর্তন করেন। পরে যুক্ত হন আরো অনেকে।

একাত্তরে দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নাগরিক সভ্যতার নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ভাস্কর্য চর্চা বাড়তে থাকে।

Check Also

আগামী মাসেই আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট: মনিরুল

শিবির সন্দেহেই বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম …