কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে ভাষার বিকৃতি কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

কোমল পানীয় কোম্পানি কোকাকোলার বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বিকৃত শব্দের ব্যবহার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এই রুল জারি করেন।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে প্রচারিত কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বিকৃতি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে বাংলা ভাষার বিকৃতি বন্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে রুল জারিরও আর্জি জানানো হয়।

ওইদিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান রানা এই রিট আবেদন করেন। পরে তিনি জানান, রিটটি কোকাকোলার ব্যবসা বন্ধের জন্য করা হয়নি, বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধে করা হয়েছে।

রিটের বিবাদীরা হলেন- আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজেস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

তিনি আরও বলেন, কোমল পানীয় কোকাকোলার বোতলের বিজ্ঞাপনে ‘জটিল, চরম, মাথা নষ্ট, বাবু, ঢিলা, ফাঁপর, জান, গুটি, গাব, আগুন, কড়া, অস্থির, পার্ট, প্যারা, ব্যাপক, যা-তা’ এর মতো বাংলা শব্দের ব্যবহার নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে অনুমতি নিয়ে বুধবার চন্দন চন্দ্র সরকারের পক্ষে এই রিট আবেদন করা হয়েছে।

আইনজীবী মনিরুজ্জামান রানা বলেন, এ শব্দগুলো বোতলে বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা প্রচার করছে। এটা আপত্তিজনক। আমরা চাই এ ধরনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে। কারণ একটা শিশু দোকানে গিয়ে বলছে ‘আমাকে একটা প্যারা দেন’। ‘একটা মাথা নষ্ট দেন’। এটার তো নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট হচ্ছে। তাই এটার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ কারণেই রিট আবেদন করা হয়েছে।

Check Also

খালেদার নামে তোলা হচ্ছে বগুড়া-৬ আসনের মনোনয়ন

বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে মনোনয়ন ফরম তোলার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান …