সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরে মরদেহ সরাতে কড়া ব্যবস্থা নেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী

কাশ্মীরের পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানে বিরাজ করছিল তুমুল উত্তেজনা। এ ঘটনার পর পাকিস্তানকে সময় মতো সমুচিত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রেখেছিল ভারত। সেই লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) পেরিয়ে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ধ্বংস করা হয় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। এসময় প্রায় ৩০০ ‘জঙ্গি’ প্রাণ হারায় বলে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি কর। তবে পাকিস্তানের প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রথম থেকেই উড়িয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ভারতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মুখে সেই একই কথা উঠে আসায় জোরাল হয়েছে সেই বিতর্ক।

যদিও ইতালীয় সাংবাদিক ফ্রানচেসকো মারিনোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংবাদ মাধ্যম ফার্স্টসর্স-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের ভূমিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। যাদের মধ্যে অনেকেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কর্নেল। এছাড়াও ওই মৃতদের তালিকায় রয়েছে একঝাঁক জঙ্গি।
এয়ার স্ট্রাইকের ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই মরদেহগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছেন সাংবাদিক ফ্রানচেসকো মারিনো। তিনি লিখেছেন যে, অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহগুলো।

ওই প্রতিবেদন অনুসারে, “অভিযানের পরেই স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা সেখানে যান। যদিও সমগ্র এলাকা ঘিরে ফেলে পাকিস্তানি সেনারা। স্থানীয় মানুষ তো দূরের কথা পুলিশকেও ঘটনাস্থলে যেতে দেওয়া হয়নি।’

শুধু তাই নয়, প্রমাণ লোপাটের জন্য আরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

ফ্রানচেসকো মারিনো লিখেছেন, “অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল মরদেহগুলো। যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে সেই কারণে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে থাকা মেডিক্যাল স্টাফদের মোবাইল নিয়ে রেখেছিল পাকিস্তানি সেনারা। কেননা মোবাইলে ছবি তুলে রাখলে এবং তা ফাঁস হয়ে গেলে বিপদ বাড়বে তা বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছিল তারা।’

ফ্রানচেসকো মারিনো একজন ইতালীয় সাংবাদিক। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা কভার করেন। ২০১০ সালে ইতালিয়ান সাংবাদিকতার শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পেয়েছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি স্ট্রিঙ্গার এশিয়া নামক একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদিকার দায়িত্ব সামাল দিচ্ছেন।

সাংবাদিক ফ্রানচেসকো মারিনোর দাবি- ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা সূত্রে তার কাছে যা খবর এসেছে, কর্নেল সেলিম এবং কর্নেল উসমান ঘানির নাম তারা নিজেদের ‘কমিউনিকেশন ইনটেলিজেন্সের’ মাধ্যমে পেয়েছে। ভারতের গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইজিং উইং বা ‘র’ নাকি পাঁচজন নিহত জঙ্গি এবং আইএসআই এজেন্টের নাম জানতে পেরেছে।

কিন্তু ওই জায়গায় আরও ২০ জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে র-এর কাছে। কোনো কোনো ভারতীয় মিডিয়ার বক্তব্য ওই জায়গায় ৩০০ জঙ্গি মারা গেছে। যদিও তেমন তথ্য এখনও পর্যন্ত উঠে আসেনি। ‘র’ -এর কাছে নাকি আরও খবর রয়েছে, জৈশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি ট্রেনারদের পুলওয়ামার ঘটনার পরই ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় আইএসআই। কারণ, তাদের কাছে খবর ছিল, ভারত এয়ারস্ট্রাইক করতে পারে।

Check Also

সুপ্রভাত-জাবালে নূর বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

সুপ্রভাত পরিবহনের সাথে জাবালে নূর পরিবহনের সবগুলো বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন …