প্রতিদিন পেইনকিলার খাচ্ছেন?

শরীর যখন আছে, তখন শরীরে ব্যথাও করতে পারে, এটাই স্বাভাবিক। এই ব্যথা দূর করতে ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করেন অনেকেই। তাতেও কাজ না হলে ডাক্তারের কাছে যান, কারণ ব্যথাটা হতে পারে বড় কোনো রোগের উপসর্গ। কিন্তু কিছু মানুষ ডাক্তারের কাছে না গিয়ে বরং ফার্মাসি থেকে পেইনকিলার কিনে খেয়ে নেন। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কিছু পেইনকিলার পাওয়া যায়। এগুলো মাঝে মাঝে খাওয়াটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু ঘন ঘন পেইনকিলার খাওয়াটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়।

আমাদের দেশে ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইবুপ্রোফেন ধরনের পেইনকিলারটি খাওয়া হয় খুব। ব্যথা হলে অনেকেই মুড়িমুড়কির মতো তা খেতে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলেই সমস্যা। ৪০০ থেকে ৮০০ মিলিগ্রাম আইবুপ্রোফেন, দিনে ৪ বার পর্যন্ত খাওয়া যেতে পারে। এর বাইরে গেলে, বা টানা এক মাসের বেশি এই পেইনকিলার খেলে আপনি অবশ্য শারীরিক কিছু সমস্যা টের পাবেন।

শুনে অবাক হতে পারেন কেউ কেউ, কিন্তু শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় এমন পেশায় থাকা মানুষ, বা রাত জাগতে হয় এমন মানুষ ব্যথা কমাতে পেইনকিলারের ওপর নির্ভর করেন। তা হতে পারে আইবুপ্রোফেন বা অন্য কোনো পেইনকিলার। এতে প্রতিদিনের ব্যথা কমলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে শরীরে। দেখা দিতে পারে পেট, হৃদযন্ত্র এমনকি কিডনির সমস্যা।

১) প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক আমাদের পাকস্থলী ও অন্ত্রের ভেতরটাকে এসিড থেকে নিরাপদ রাখে। আইবুপ্রোফেন ধরনের পেইনকিলার প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। ফলে এসব এসিড পেটের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি পাকস্থলী ও অন্ত্রে আলসার, ব্যথা এমনকি রক্তপাতও হতে পারে।

২) আইবুপ্রোফেনের কারণে কিছু এনজাইম উৎপাদন বন্ধ হতে পারে যেগুলো প্লাটিলেটের মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কিন্তু লম্বা সময় আইবুপ্রোফেন খাওয়া হলে এসব এনজাইমের অভাবে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাতের ঝুঁকি দেখা যায়।

৩) অনেকেই জানেন যে, বেশি পেইনকিলার খাওয়াটা কিডনির জন্য খারাপ। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের পরিমাণ অস্বাভাবিক কমে গেলে কিডনি ফেইলিওর হওাটা অসম্ভব নয়।

৪) কিছু সময়ে আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করাটা একেবারেই অনুচিত। অ্যালকোহলের সাথে তা গ্রহণ করলে পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাতের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে ছয় মাসের পর তা গ্রহণ করা যাবে না মোটেই।

এ ছাড়া অন্যান্য পেইনকিলারও বেশি সময় ব্যবহার করা যাবে না। যেমন-

অ্যাসিটামিনোফেন

এ ধরনের পেইনকিলার অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে হেপাটোটক্সিসিটি হতে পারে। এটা হলো রাসায়নিক কারণে যকৃতের ক্ষতি যা সারিয়ে তোলা অসম্ভব। এর উপসর্গ হতে পারে পেটে ব্যথা, ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া এবং বমি বমি ভাব।

ওপিওয়েড

এগুলো শুধু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেওয়া হয়। তা বেশি ব্যবহারে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, মানসিক সমস্যা, মূত্রত্যাগে সমস্যা, চুলকানি ইত্যাদি। এমনকি খুব বেশি ব্যবহারে ব্যথা কমার পরিবর্তে ব্যথার প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়তেও পারে।

অ্যাডজুভেন্ট অ্যানালজেসিক

এ ধরনের পেইনকিলার সাধারণত নিউরোপ্যাথিক পেইনে দেওয়া হয়। এর অতি ব্যবহারে হতে পারে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক সমস্যা।

Check Also

গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিলে ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে সৃষ্ট …