তামিম-স্মিথদের ক্রিকেট শেখালো মাশরাফির রংপুর

বল হাতে যেন রণমূর্তি ধারণ করেছিলেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার আঘাতে শুরুতেই দিশেহারা প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অধিনায়কের দারুণ শুরুর ব্যাপারটির সদ্ব্যবহার করে বল হাতে শাসন করে যান শফিউল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম অপুও। তাতে পুঁচকে সংগ্রহ গড়েই দম ছেড়ে দেয় স্টিভেন স্মিথ-তামিম ইকবালদের দল কুমিল্লা।

যে রান তাড়া করতে কোনো বেগই পেতে হলো না রংপুরকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটে-বলে কুমিল্লাকে শাসন করে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পুরো ইনিংসে ধুঁকেছে। শুরুতেই ম্যাচসেরা মাশরাফি বিন মুর্তজার যে বোলিং তোপের মুখে তারা পড়েছে, সেটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি তারা। ১৬.২ ওভারে ৬৩ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় জয় দিয়ে বিপিএল শুরু করা কুমিল্লা। জবাবে ১২ ওভারেই ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় রংপুর। বিপিএলে এটা তাদের টানা দ্বিতীয় জয়।

ছোট লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে তাড়াহুড়ো করেননি রংপুরের দুই ওপেনার ক্রিস গেইল ও মেহেদী মারুফ। অবশ্য এতেও ভালো শুরু পায়নি দলটি। রংপুরের হয়ে এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ক্রিস গেইল এক রান করেই বিদায় নেন। গেইলের বিদায়ও বিপদে ঠেলে দিতে পারেনি রংপুরকে। আরেক ওপেনার মেহেদী মারুফ ও আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক রাইলি রুশো মিলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। মারুফ ৩৬ ও রুশো ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

এরআগে ব্যাটিং করতে নামা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শুরুটা ভালো হতে দেননি রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডানহাতি এই পেসারের বিপক্ষে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা কুমিল্লার ওপেনার তামিম ইকবাল নিজেকে সামলে নিতে পারেননি। মাশরাফির একটি স্লোয়ার ডেলিভারি খেলতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে থামতে হয় বাঁহাতি এই ওপেনারকে।

১০ রানে প্রথম উইকেট হারানো কুমিল্লাকে আর গুছিয়ে ওঠার সুযোগ দেননি মাশরাফি। নিজের করা তৃতীয় ওভারে গিয়ে কুমিল্লাকে পথ ভুলিয়ে দেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করা মাশরাফি এই ওভারে ইমরুল কায়েস ও এভিন লুইসকে সাজঘর দেখিয়ে দেন। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে রান তোলার কথাই যেন ভুলে যান কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। ৬ ওভারে স্কোরকার্ডে মাত্র ১৮ রান যোগ করেন তারা।

১৮ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে কুমিল্লা তখন মাঝ দরিয়ায়। এমন সময় ছোবল বসান রংপুরের আরেক পেসার শফিউল ইসলাম। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শোয়েব মালিককে ফিরিয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার। নিজের শেষ ওভার করতে গিয়ে কুমিল্লার ইনিংসে সবচেয়ে বড় আঘাতটি হানেন মাশরাফি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুমিল্লার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে ফিরিয়ে দেন ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নেওয়া অভিজ্ঞ এই পেসার।

১৮ রানে তিন উইকেট হারানো দল এই সংখ্যাটিই পেরোতে পারেনি, বাকি দুই উইকেটেও গেছে ১৮ রানের মধ্যেই। স্কোরকার্ডকে মোবাইল নম্বর বানিয়ে ফেলা কুমিল্লা তখন হয়তো নিজেদের ইনিংসের শেষ দেখতে পাচ্ছিল। এমন সময় কুমিল্লাকে একটু স্বস্তি দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি। তার ব্যাট থেকে আসে ইনিংস সেরা ২৫ রান।

কুমিল্লার ইনিংসে আফ্রিদিই একমাত্র ব্যাটসম্যান, যে কি না দুই অঙ্কের রান করতে পেরেছেন। বাকিরা দলের দুঃসময়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান, আবু হায়দার রনিরা উইকেটে গেছেন আর ফিরেছেন। মাত্র ১১ রান খরচায় ৪ উইকেট নেওয়া মাশরাফিই নিসন্দেহে রংপুরের সেরা বোলার। ৮ রান খরচায় ২ উইকেট নেন শফিউল। এ ছাড়া নাজমুল ইসলাম অপু তিনটি ও ফরহাদ রেজা একটি উইকেট নেন।

Check Also

নতুন বছরে স্বস্তি ফিরেছে পুঁজিবাজারে

টানা দরপতনের পর নতুন বছরে স্বস্তি ফিরে এসেছে দেশের পুঁজিবাজারে। ২০১৮ সাল জুড়েই দেশের প্রধান …